রাশিয়া ও ইউক্রেন অবিলম্বে একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিবিসির
সংবাদ মাধ্যমটি লিখেছে, মস্কো এ বিষয়ে নীরব থাকলেও বিষয়টিকে নিজের জন্য ‘নতুন খবর’ আখ্যা দিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই যুদ্ধবিরতি ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হয়েছে। তবে কোনো বিস্তারিত রূপরেখা তিনি দেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই ঘোষণার পরপরই অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধবিরতির কথা তিনি প্রথম শুনলেন।
তবে রাশিয়া প্রস্তুত থাকলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া গেলে ইউক্রেনও হামলা বন্ধ করতে রাজি বলে জেলেনস্কির ভাষ্য।
এদিকে ট্রাম্পের ওই বার্তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভের একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। তাতে অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরই ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির রেকর্ড দাম কমানোর অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়ে ডিজেল আমদানির চুক্তি করেন ট্রাম্প।
এরপর থেকে তিনি ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের তাগিদ দিয়ে আসছেন।
তবে ট্রাম্পের এই ডিজেল চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে এটিকে পুতিনের জন্য ‘উপহার’ বলেছেন জেলেনস্কি।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম, ফ্রান্স, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই জ্বালানি যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে সমর্থন করলেও ডিজেল চুক্তির বিরোধিতা করেছে।
ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা এই চুক্তি সমর্থন করেন না।
যুক্তরাষ্ট্রেও বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিন জন ডেমোক্র্যাট ও চার জন রিপাবলিকান সিনেটর এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাম্পের চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসের পাস করা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন, যেখানে রাশিয়ার ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ছিল।
রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস এনবিসি নিউজকে বলেন, এই চুক্তি আমেরিকানদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে।
এর আগে ট্রাম্প ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তাগিদ দিলে জবাবে জেলেনস্কি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থায় নির্বাচন স্থগিত থাকলেও, রাশিয়া যদি ৬০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়, তবে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে প্রস্তুত।
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই রোববার ইউক্রেনের দুটি শহরে রুশ হামলায় ছয় জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে এক জন এবং ড্রোন হামলায় রুশ-অধ্যুষিত দোনেৎস্কে আরও এক জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ