weather ৩৩.৮২ o সে. আদ্রতা ৫৮% , বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নতুন রুপ ফিরে পাচ্ছে গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেক

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হাতিরঝিলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় ব্যাপক পরিবর্তন

প্রকাশ : ০৮-০৬-২০২৬ ১৯:১৪

হাতিরঝিল। ছবি : সংগৃহীত

সোহেলী চৌধুরী
জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হাতিরঝিলের সার্বিক চেহারা বদলে দিতে একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি হাতিরঝিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরেজমিন পরিদর্শনের পর তাঁর নির্দেশনায় এই উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হাতিরঝিলসহ  গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেকের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা, দর্শনার্থী ও জনসাধারনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়ক ও অবকাঠামোগত ত্রুটি দূর করে লেকগুলোর পানি বজ্র নিস্কাশনের মাধ্যমে দূগন্ধ দূর করে পরিবেশ বান্ধব করা। 

এলাকাটিতে কিছুদিন আগেও এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, যেখানে ছিনতাইকারীদের ভয়ে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। একই সময়ে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর এবং মরদেহ উদ্ধারের মতো ঘটনাও জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক উদ্যোগ ও সংস্কার কার্যক্রমের ফলে সেই পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

বিগত কয়েক সপ্তাহে হাতিরঝিলে যে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে তাহলো-  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিদর্শনের সময় হাতিরঝিলের মূল চক্রাকার সড়ক ও সংলগ্ন সংযোগ সড়কের কিছু অংশে ছোট-বড় গর্ত ও ফাটল নজরে আসে। তাঁর তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করে। বর্তমানে ভাঙা রাস্তা মেরামত করে নতুন করে পিচ ঢালাই করা হয়েছে, ফলে যানবাহন চলাচল এখন অনেক মসৃণ ও ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো ও নষ্ট হয়ে থাকা সড়ক বাতি ও নান্দনিক বাতিগুলো মেরামত করা হয়েছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে নতুন আধুনিক এলইডি লাইট স্থাপন করায় পুরো হাতিরঝিল এখন রাতেও দিনের মতো আলোকিত, যা সড়ক দুর্ঘটনা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়েছে।

এই উন্নয়ন কাজে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন ক্ষমতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। নগর অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনায় রাজউকের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হয়ে আসছে, এবং হাতিরঝিলের এই সংস্কার কার্যক্রম সেই সুনামকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

হাতিরঝিলের অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল লেকের পানির দুর্গন্ধ এবং আশপাশে ফেলা ময়লা-আবর্জনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। গত ২০ মে ২০২৬ তারিখ রাজউকের সদস্য উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণকে আহবায়ক করে ওয়াসা সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন হয়েছে। 

যে কমিটি সমন্বিতভাবে গত ২৩ মে থেকে ১০টি আলাদা আলাদা টিম গঠন করে হাতিরঝিলসহ গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পানি দুর্গন্ধ ও ময়লা নিষ্কাশন করে লেকগুলোর সৌন্দর্য বর্ধনে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে।

লেক থেকে ভাসমান বর্জ্য, পলিথিন ও প্লাস্টিক বোতল অপসারণে আধুনিক বোট ও লোকবল নিয়োগ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে যত্রতত্র ময়লা না ফেলেন, সে জন্য পুরো এলাকায় নির্দিষ্ট দূরত্বে নতুন ও দৃষ্টিনন্দন ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন ভোর ও রাতে নিয়মিতভাবে আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। হাতিরঝিলকে পরিবেশবান্ধব ও আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরিবেশবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াকওয়ে, সড়ক দ্বীপ ও খালি জায়গায় দেশীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও নান্দনিক ফুলের গাছ রোপণ করা হচ্ছে।

বিশেষ করে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, জারুল ও সোনালুর মতো ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটি হাতিরঝিলকে অনন্য রূপ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত লনগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে।

সন্ধ্যা ও রাতের বেলা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পুরো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে— 

রাজউকের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ টহল দল নিয়োজিত রয়েছে।

বিভিন্ন পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা মোবাইল নিরাপত্তা টিম বাইক ও গাড়ির মাধ্যমে টহল দিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ওয়াচ টাওয়ার সক্রিয় করা হয়েছে।

অকেজো ক্যামেরাগুলো পরিবর্তন করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নাইট-ভিশন সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মনিটর করা হচ্ছে।

হাতিরঝিলে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণে আসা এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এসে নির্দেশনা দেওয়ার পর হাতিরঝিলের চেহারাই বদলে গেছে। আগে এখানে ছিনতাইয়ের ভয় ছিল, অনেক সময় হাঁটা যেত না। এখন ভাঙা রাস্তা ঠিক হয়েছে, রাতে সব লাইট জ্বলে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। আমরা এখন পরিবার নিয়ে অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না এবং হাতিরঝিলসহ  গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেকের এই পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রূপ ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর হাতিরঝিল মেগা প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এবং মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীর মগবাজার, কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁও এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং উন্নত বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। পাশাপাশি ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে দ্রুত ও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং নগরবাসীর জন্য একটি নান্দনিক বিনোদনকেন্দ্র তৈরি করা।

প্রায় ৩০২ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের পর দাঁড়ায় প্রায় ১,৯৭১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে, আর রাজউক, এলজিইডি ও ঢাকা ওয়াসা এতে সহযোগিতা করে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল ও ভিটি স্থপতি বৃন্দ লিমিটেড এর নকশা প্রণয়নে যুক্ত ছিল।

প্রকল্পে ৮.৮০ কিলোমিটার এক্সপ্রেস সড়ক, সেতু, ইউ-লুপ, হাঁটার পথ, অ্যাম্ফিথিয়েটার, মিউজিক্যাল ফাউন্টেন এবং ওয়াটার ট্যাক্সি সেবাসহ আধুনিক অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পিলসনিউজ/এসসি

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

ছয় বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা : নিরাপত্তা প্রহরীর রিমান্ড ছয় বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা : নিরাপত্তা প্রহরীর রিমান্ড দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি, তদন্ত চলছে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি, তদন্ত চলছে ভারতকে চিঠি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চায় বাংলাদেশ ভারতকে চিঠি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চায় বাংলাদেশ ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার