weather ৩৪.৯৯ o সে. আদ্রতা ৫১% , বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবির মাঠে খেলতে আসায় কানে ধরিয়ে উঠবস করালেন ডাকসু নেতা

প্রকাশ : ২৬-০১-২০২৬ ১১:১৭

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসায় বেশ কয়েকজন কিশোর ও তরুণকে কানে ধরিয়ে উঠবস করিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ সময় ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনও সেখানে ছিলেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় প্রায় ৩০ জন কিশোর–তরুণ সারিতে দাঁড়িয়ে কান ধরে উঠবস করছেন। তাদের সামনে একটি লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন সর্বমিত্র চাকমা। ঘটনাটি ৬ জানুয়ারির বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল নাহিদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজকে দেখলাম শিবির প্যানেল থেকে মনোনীত ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমা একদল বাচ্চা ছেলেপেলেকে কান ধরিয়ে উঠবস করাচ্ছে আর লাঠি হাতে এদিক–ওদিক তেড়ে যাচ্ছে। ভয়ে বাচ্চা ছেলেগুলো কান ধরে উঠবস করতেছে।’

মাস্টারদা সূর্য সেন হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. আবিদুর রহমান (মিশু) ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এবার শিবিরের গৃহপালিত ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা প্রক্টরের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়ে বাচ্চাদের কানে ধরে উঠবস করাচ্ছে। অপরাধ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে এসেছে। অথচ বাচ্চারা কোনো অন্যায় করে থাকলে তার বিচারের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এটাই শিবিরের শাসনব্যবস্থার নমুনা। এইটুক ক্ষমতাকে পুঁজি করেই এই অবস্থা করতেছে।’

এদিকে ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামীম ভিডিওটি শেয়ার করে সর্বমিত্র চাকমাকে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেন, যা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এ ঘটনায় সাধারণ ব্যবহারকারীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মনোয়ার হোসেন নামে একজন লেখেন, ‘ঢাকা শহরে শিশুদের খেলার জায়গা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। কোনো কিশোর যদি নিয়ম না বুঝে কোথাও ঢুকে পড়ে, তাহলে শিক্ষার্থীদের উচিত সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলা। লাঠি হাতে কান ধরিয়ে ভয় দেখানোর অধিকার সর্বমিত্র চাকমাকে কে দিয়েছে?’

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যত বড় অপরাধীই হোক না কেন, কাউকে লাঠি হাতে এভাবে শাস্তি দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার কারো নেই। আপনার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল টিমকে জানানো। শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের। আপনি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মাত্র— আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার আপনার নেই।’

এদিকে এ ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সর্বমিত্র চাকমা। এতে গত বছরের ১৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মাঠে অনুশীলন করতে যাওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সাইকেল হারানোর ঘটনা তুলে ধরেন তিনি।

সর্বমিত্র চাকমা আরও লেখেন, ‘এমন অনেক ঘটনা আছে অহরহ। প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে দেয়াল সংস্কারের ফাইল ফিরে আসে, বলা হয় বাজেট নেই। এদিকে প্রতিদিন আমাদের শিক্ষার্থীরা মোবাইল হারায়, মানিব্যাগ হারায়, সাইকেল হারায়। বারবার মানা করার পরও আসে, স্টাফদের ওপর ঢিল ছুড়ে পালায় দেয়াল টপকিয়ে। এদিকে দেয়ালের বেহাল দশা। প্রশাসনের অসহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য এর চাইতে আর কী করার আছে?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সর্বমিত্র চাকমা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের তো আমার কাছে চাওয়া–পাওয়া আছে। তারা (ক্যাম্পাসের বাইরের লোকজন) যখন প্রতিনিয়ত মাঠে এসে ইটপাটকেল মারে এবং তাদের বারবার বলার পরেও যখন কথা শোনে না, সেই জায়গা থেকে আমাকেও তো কিছু করতে হয়, তাই না?’

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

ছয় বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা : নিরাপত্তা প্রহরীর রিমান্ড ছয় বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা : নিরাপত্তা প্রহরীর রিমান্ড দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি, তদন্ত চলছে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ১৪০ কোটি টাকার দুর্নীতি, তদন্ত চলছে ভারতকে চিঠি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চায় বাংলাদেশ ভারতকে চিঠি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চায় বাংলাদেশ ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার